Friday, September 20, 2024

How to Control The Traffic Jam of Dhaka and Eliminate for Ever?

How to Control The Traffic Jam of Dhaka?

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৩ বছর অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে নিজের গন্তব্যের দিকে থাবমান। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪টি বিভাগ থেকে আজ ৮ টি বিভাগীয় শহর কিছু থাক বা না থাক বিভাগীয় শহর তো মানুষকে শান্তনা দেওয়ায়র একটা উপকরন আর কি।

এই ৮ টি বিভাগীয় শহরের ঢাকা একটি যার পূর্ব নাম জাহাঙ্গীর নগর এবং সুবেদার ইসলাম খাঁ এর সময় থেকেই রাজধানীর আসনে আসিন- ১৯৭১সালের পরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকা সিটি করপোরেশন বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত একটি দক্ষিন আর আর একটি উত্তর জনগনের সেবার নামে প্রতারনা এবং টাকা মারা এক অভিনব কৌশল এই বিভক্তিকরন- সে যাই হোক একবার লিস্টে যখন নাম ঊঠে গেছে তাই মেনে চলতে হবে। উত্তর এবং দক্ষিন মিলে ঢাকার আয়াতন প্রায় ১৪৬৩.৬০ স্কয়ার কিমি যার ৯% রাস্তার জন্য এবং ৬% রাস্তার ফুটপাথের জন্য যেখান দিয়ে পথচারী পারাপার হবে কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই ফুটপাথ আজ দখলে ভাসমান ব্যবাসায়িদের এবং চলমান মোটর সাইকেল চালকদের। বর্তমানে ঢাকা শহরে( দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে) প্রায় ৩০০০ কিমি রাস্তা রয়েছে যার মধ্যে ২০০ কিমি প্রাথমিক স্তরের ১১০ কিমি দ্বিতীয় স্তরের ৫০ কিমি ফিডার এবং ২৬৪০ কিমি হচ্ছে সরু এবং বিকল্প সংযোগ সড়ক।

বর্তমানে বি আর টি এ এর হিসাব মোতাবেক ঢাকা সিটিতে প্রায় ১.৭ মিলিওয়ন যানবাহন (বাস, ট্রাক, এম্বুলেন্স, রিক্সা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার সহ সকল প্রকারের যানবাহন) রয়েছে কিন্তু সে তুলনায় ট্রাফিক বা রাস্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ সংখ্যায় একেবারে অপ্রতুল- কারন অনেক চেস্টা করেও কোথাও পেলাম না বাংলাদেশে বর্তমানে ঠিক কতজন ট্রাফিক পুলিশ আছেন আর তার মধ্যে ঢাকাতে কতজন আছে যাও একটা সংখ্যা পেলাম বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না কারন সংখ্যাটা মাত্র ৪০০০ তাও আবার পুরো বাংলাদেশে যদি এটা সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই এই সংখ্যা অতি শীঘ্রই পরিবর্তন যোগ্য এবং পরিবর্তনীয় কারন এরা সংখ্যায় এতই স্বল্প যে এদের দ্বারা কোন কিছু আশা করাই ভুল কারন প্রত্যেকেরই কাজের বা কাজ করার একটা সীমা থাকে এবং অবশ্যই কাজটা হতে হবে আনন্দদায়ক কোনভাবেই স্ট্রেস্ফুল কাজ সুফল বয়ে আনবে না।

ঢাকা সিটিতে জ্যামের এটা একটা বড় কারন যেখানে নিম্ন বেতনের এই ট্রাফিক পুলিশ রোদ বৃষ্টি ঝড়ে অমানুষিক পরিশ্রম করে আর সার্জেন্ট শ্রেনীর উচ্চ বেতনের পুলিশ কিভাবে ঘুষ নিবে আর কারন ছাড়া কারন তৈরি করে কেস করবে আর এখন তো মজাই মজা রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ বক্স যেখানে ঠান্ডা হাওয়া আর আরামদায়ক পরিবেশে ঘুষের বিষয়ে আলোচনা করার মজাই আলাদা- আর বাইরে একজন ট্রাফিক পুলিশ অসহনীয় গরম এবং প্রচন্ড ঝড়ে তার দায়িত্ব পালন করে যায় অক্লান্তভাবে।

ঢাকা সিটির ট্রাফিক জ্যাম বা রোড জ্যাম কমানোর জন্য বা নিয়ন্ত্রনের জন্য অনেক অনেক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম এয়ারপোর্ট রোড যেটা কীনা পৃথিবীর সব থেকে ব্য্যবহুল রাস্তা কিন্তু এখনও কাজ শেষ হয় নি প্রায় ১৭ বছর পার হল – যাই আসল কথা জ্যাম নিয়ন্ত্রন করা- এই জ্যাম নিয়ন্ত্রন করার জন্য  -

১। এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে

২। রাস্তার পরিধি বৃদ্ধি

৩। রেপিড ট্র্যান্সিট বাস সার্ভিস – কাজ সম্পন্ন হয় নি কবে হবে ঠিক বলা যাচ্ছে না-


ঢাকা সিটির বর্তমান ট্রাফিক জ্যাম এতটাই ভয়ংকর যে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয় – কিন্তু এর সুরাহা করার জন্য কোন যুগোপযোগী পরিকল্পনা আজও গ্রহন করা হয় নি যা হয়েছে লোক দেখানো এবং লুটপাটের একটা নয়া পথ – যেটাকে আবার ফলাও করে উন্নয়েনের ডামাডোলে পুরে দেশকে সিঙ্গাপুর বা দুবাই বানিয়েছে এদেশের কিছু অসাধু স্বার্থপর বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিক- আদতে কোন কাজই হয় নি – বেড়েছে ঋণের বোজা সাধারন মানুষের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব।

ঢাকা সিটিতে জ্যামের পরিমান কমাতে পারলে দেশের অগ্রগতিতে বেগ পাবে জনগনের মনে প্রশান্তি আসবে আর সময়ের কাজ সময়েই করা যাবে – এখন পর্যন্ত রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য যে সব কাজ করা হয়েছে সব অপরিকল্পিত এবং মনগড়া বিশেষ করে ঢাকার অবস্তা খুবই নাজুক – একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে রাস্তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আর উন্নয়নের নামে যা হয়েছে – একই সাথে সাধারন কার্যক্রম রাস্তার অব-কাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে যেটা কোনভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়,  এতে না হয় মানসম্পন্ন কাজ না থেকে সাধারন জনগনের নিরাপত্তা – কাজের সাথে নিরপত্তা জড়িত সুতরাং অবশ্যই সকলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে। এই জাতীয় কাজ হতে হবে রাতের বেলা এবং কাজ শেষে কাজের থেকে যে যে ময়লা বা আবর্জনা এবং অতিরিক্ত সকল মালামাল সরিয়ে ফেলতে হবে যাহাতে রাস্তায় কোন প্রকারের বাধার সৃষ্টি না হয়, যাহা জ্যামের সৃষ্টি করবে- মানে রাখতে হবে যারা লোকাল বাস বা প্রাইভেট কার এ চলাচল করে সকলের সময় কিন্তু এক ২৪ ঘণ্টা এবং কাজের সময় নির্ধারিত একদিন যদি কোন কাজ করতে দেরী হয় তাহলে দেশ কিন্তু রেভেন্যু হারাবে আর রেভেন্যু হারানো মানে দেশ পিছিয়ে যাওয়া – তাই দেশের সরবাঙ্গীন উন্নয়ন এবং অগ্রগতির জন্য ঢাকার রাস্তার জ্যামকে নিয়ন্ত্রন এবং দূর করার জন্য –

১। ২৫ বা তার থেকে অধীক বছরের পুরাতন সকল গাড়ী রাস্তায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে বন্ধ করতে হবে- এই ক্ষেত্রে বি আর টি এ এর ডাটাবেজে সকল গাড়ীর আমদানীর সাল বা তারিখ পারলে উৎপাদন সাল থাকলে আরো ভালো। এই ক্ষেত্রে বি আর টি এ এর সকল কর্মকর্তাদের ৭৫% থেকে ৮০% সততার সাথে কাজ করতে হবে এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল বাংলাদেশী হিসাবে কাজ করতে হবে এবং কোন ব্যক্তির না ১৮ কোটি বাংলাদেশীর স্বপ্ন পুরনে কাজ করতে হবে।

২। নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ ব্যাতিত অন্য কোন স্তানে বাস থামিয়ে লোকজন ওঠানো বা নামানো যাবে না- এবং কোন স্টপেজে ১২০ সেকেন্ডের বেশী কোন গাড়ী দাড়াতে পারবে না- যাত্রী ওঠা এবং নামানো ১২০ সেকেন্ডেই করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে এবং দায়ীত্তশীলতার সাথে কাজ করতে হবে।

৩। আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে যে কোন যাত্রী নির্ধারিত বাস স্টপ ছাড়া হাত উঁচিয়ে যেখানে সেখানে বাসে ওঠার চেস্টা করলে তাকে জরিমানা সহ শাস্তি পেতে হবে একই সাথে জরমিনার পরিমান এমন হতে হবে যে পরবর্তীতে একই কাজ করতে মনের ভিতরে ভয়ের সঞ্চার হয় এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়- রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হস্তে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করলে রাস্তার জ্যাম ১০% হ্রাস পাবে – ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার করে সকলকে নিয়মিত সচেতন করা এবং ট্রাফিক আইনকে সচেতনতার সাথে মেনে চলতে উৎসাহিত করা এবং মেনে চলতে আগ্রহী করা।

 

৪। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি লোকাল এবং দুরপাল্লার বাসের ড্রাইভার থেকে শুরু করে বাসের সকল স্টাফ বিশেষ করে লোকাল বাসের সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম – এরা শিখে শিখে ড্রাইভার এবং হেল্পার ও সুপারভাইজার তো প্রায় কাজ না জানা – তাই এদেরকে দক্ষ্য এবং সম্পদে পরিনত করার জন্য এদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা যাহাতে এদের আচার আচরনে পরিবর্তন আসে রাস্তায় কীভাবে গাড়ী চালাতে হবে – গতি কত থাকবে যাত্রীদের সাথে কী ধরনের আচরন করতে হবে ইত্যাদি। রাস্তার প্রতিটি সিগনালের মানে কী? কীভাবে সিগনাল মেনে গাড়ী চালাতে হবে ইত্যাদি।

৫। প্রতি বছর লাইসেন্স নবাওয়নকালীন প্রতিটি ড্রাইভারকে নবাওয়ন ফি এর সাথে অবশ্যই তাকে একবছরে তার অর্জিত পয়েন্ট জমা দিতে হবে যাহা সে বিভিন্ন প্রশিক্ষনে অংগ্রহনের মাধ্যমে অর্জন করবে – এবং এই পয়েন্টের পরিমান বি আর টি এ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দিবে – যদি কোন ড্রাইভার এই পয়েন্ট অর্জন করতে না পারেন তার লাইসেন্স নবাওয়ন হবে না এই ভাবে যদি ২ বছর সে ফেল করে তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল বলে গন্য হবে এবং বি আর টি এ  কর্তৃপক্ষ এর সমস্থ্য তথ্য তাদের সংগ্রহে রাখবে যাতে কোনভাবেই এই ব্যক্তি দুর্নীতির আশ্রয় নীয়ে লাইসেন্স নবাওয়ন করতে না পারে।

৬। বাংলাদেশের সকল বি আর টি এ অফিসে দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং অসাধু উপায়ে যেন কোন লাইসেন্স বের না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে- এটা প্রমানিত রাস্তা জ্যামের অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে অদক্ষ্য চালক এবং শিক্ষার আলো বঞ্চিত হেল্পার এবং সুপারভাইজার যারা অসাধু পদ্ধতির মাধ্যমে দালাল চক্রের সক্রিয় প্রচেস্টায় অসাধু উপায়ে লাইসেন্স বের করে করে রাস্তায় মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ী যাহার ফিটনেস নেই এলোমেলো ভাবে ড্রাইভ করে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করে এবং রস্তায় জ্যামের পরিমান বাড়িয়ে তোলে।

৭। সিটির ভিতরে কোন দুরপাল্লার বাসের স্টেশন থাকতে পারবে না এবং রাত ১০ টার আগে সিটির ভিতরে কোন দুরপাল্লার বাস ঢুকতে পারবে না।

৮। খাদ্য শস্য, ঔষধ, শিল্প-কারখানার জন্য কাঁচামাল, রপ্তানী পণ্য সহ বাইরে থেকে আমদানী করা এবং রপ্তানী করার জন্য ব্যবহৃত লরি এবং কন্টেইনার রাত ৯টার সময়ে ঢুকবে এবং সকাল ৬টার মধ্যে সিটি থেকে বের হয়ে যাবে – দিনের বেলায় কোন ক্রোমেই কোন প্রকারের লরি, মালবাহী ট্রাক এবং কন্টেইনার সিটিতে চলাচল করতে পারবে না।

৯। সিটির প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কোন প্রকারের রিক্সা চলতে পারবে না।

১০। ঢাকা সিটির মোট আয়তনের প্রায় ৬% ফুটপাথ কিন্তু এই ফুটপাথের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না – ফুটপাথে কোন প্রকারের দোকান বসানো যাবে না এবং মোটর সাইকেল জাতিয় কোন প্রকারের যানবাহন ফুটপাথের উপড় দিয়ে চালানো যাবে না – যদি কেউ চালায় তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং এই কাজ যথাযথ ভাবে রাস্তার নিয়ন্ত্রনে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী করবে এবং তাদের সেই ক্ষমতা প্রদান করতে হবে শুধুমাত্র ঘুষ না দেশের ভালোর জন্য এদের কাজে উৎসাহিত করতে হবে এবং চাকুরীকালীন বিভিন্ন প্রকারের  সফট স্কিলের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে যাহাতে এরা এদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত হয়, কারন প্রশিক্ষণই হচ্ছে একমাত্র হাতিয়ার যা মানুষকে পরিবর্তন করতে সক্ষম – এবং দক্ষ্য ও সচেতন নাগরিক একটা দেশের সম্পদ- তা সে যেই হোক না কেন।

১১। রাস্তায় লেইন মেনে নির্ধারিত গতি সীমার মধ্যে গাড়ী চালানো – যেহেতু শিক্ষিত অশিক্ষিত কোন চালকেরই রাস্তা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে কোন প্রশিক্ষন নাই তাই এরা যে জেভাবে পারে রাস্তায় গাড়ী চালায় বিশেষ করে মোটর সাইকেল ঢাকাতে বর্তমানে প্রায় ১ মিলিয়নের উপড়ে মোটর সাইকেল রয়েছে, এখন প্রায় প্রতি ১০জনে ৯ জনেরই একটা মোটোর সাইকেল আছে আর এরা রাস্তায় যেভাবে মোটর সাইকেল চালায় এক কথায় বলতে গেলে পুরাই হযবরল অবস্থা এরা মানে না কোন আইন তোয়াক্ষা করে না কোথা থেকে যাচ্ছে এখন ফুটপাথ এদেরই দখলে থাকে বেশী। এদের গতির কোন সীমা নেই জ্ঞান নেই এরা কোথায় চালাচ্ছে যার কারনে বাংলাদেশে মোটর সাইকেলের দুর্ঘটনার পরিমান অধিক- রাস্তায় কোনভাবেই এলোমেলো গাড়ী চালানো যাবে না- সকলকে লেইন এর গতিসীমা মেনে গাড়ী চালাতে হবে বারবার লেইন পরিবর্তন করা যাবে না – U-Turn করার দরকার হয় তাহলে নির্ধারিত স্থান থেকে করতে হবে আর এর জন্য U-Loop হচ্ছে ভাল ব্যবস্থা তবে সেটা ১ কিমি অন্তর অন্তর হলে ভালো হয় এতে রাস্তার জ্যামের পরিমান প্রায় ৪০% হ্রাস পাবে।

১২। রাস্তার মোড়্গুলোকে পরিষ্কার রাখা যাহাতে অল্প সময়ের মধ্যেই মোড় ঘোড়া যায় এবং নিজ গন্তব্যের পথে যাওয়া যায়।

১৩। রাস্তায় ফুটপাথের পাশে কোন প্রকারের গাড়ী পার্ক করে রাখা যাবে না – প্রায়শই দেখা যায় যে

                                                                     ক) মার্কেট

                                                                     খ) অফিস

                                                                    গ) পুলিশ স্টেশনের সামনে গাড়ীর ভিড় যা থেকে রাস্তায় জ্যামের সৃষ্টি হতে পারে – উদাহরন স্বরূপ বলা যায় টঙ্গী- আব্দুল্লাহপুর-উত্তরা জসিমুদ্দীন পর্যন্ত যত গাড়ী রাস্তায় চলে তার থেকে অনেক বেশী গাড়ী রাস্তার দুইপাশে পার্ক করে রাখা থাকে কারন এই এলাকায় মার্কেট, অফিস, হাসপাতাল এবং পুলিশ স্টেশনের কোন নির্ধারিত গাড়ী পারকিং এর ব্যবস্থা নেই তাই এরা সকল গাড়ী ফুটপাথ ঘেঁষে পার্ক করে রাখে যাহা জ্যামের সাথে সাথে ফুটপাথ দিয়ে লোক জনের চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে আর আব্দুল্লাহপুরের অবস্থা আরো শোচনীয় এখানে দুই পাশেই রয়েছে দুরপাল্লার বাস কাউন্টার যেখানে বড় বড় বাসগুলো রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা দখল করে ঘণ্টার পর ঘন্টা বসে বসে থাকে আর জ্যামের দীর্ঘতা বাড়াতে থেকে তর তর করে কারন যে হারে গাড়ী ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য আব্দুল্লাহপুরের দিকে আসে সেই হারে গাড়ী বের হতে পারে না – কারন এখানে দুইটা ডাইভারশন একটা টঙ্গী- গাজীপুর আর একটা আশুলিয়া – সাভার তাই জ্যামের পরিমান বাড়তে থাকে দ্রুত গতিতে । তাই জ্যাম কমাতে হলে রাস্তায় কোন অলস গাড়ী রাখা যাবে না , আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে যে তারা কোন মতেই রাস্তায় কোন অলস গাড়ী দাড়াতে দেবে না এমনি কী কেউ যদি রাখে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে জেল বা জরিমানা আরোপ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কেউ আইনের উর্দ্ধে না আইনের কাছে সবাই সমান এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে কোথাও জ্যাম থাকার কথা না – কিন্তু??????

১৪। রাস্তায় ভালমানের লোকাল বাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এতে দেখা যাবে এক গাড়ীতে অনেক লোক যাতায়াত করতে পারবে এতে গাড়ীর সংখ্যা কমবে এবং জ্যাম কমবে – ভালো মানের গাড়ী থাকলে অনেকেই সময়মত কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য কেউ আর টাকা খরচ করে নিজের গাড়ী করে না পাবলিক ট্রান্সপোর্টই ব্যবহার করবে তবে তার মান ভালো হতে হবে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে – এটা খুবই সম্ভব যদি ড্রাইভার থেকে শুরু করে হেল্পার এবং সুপারভাইজারদের নিয়মিত প্রশিক্ষনের আওতায় এনে প্রশিক্ষন দিয়ে একটা দক্ষ্য পরিবহন শ্রমিক তৈরি করা যায় তাহলে রাস্তায় এলোমেলো গাড়ী চলবে না সবাই আইন মেনে গাড়ি চালাবে সময়মত সবাই সবার করমস্থলে পৌঁছাবে দুর্ঘটনার পরিমান হ্রাস পাবে এবং রাস্তায় কোন ধরনের জ্যাম থাকবে  না – তবে এ ক্ষেত্রে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে – কাউ কারো দোষ না সমস্যা চিহ্নিত করে তার যথাযথ সমাধান করা।

১৫। ভালো হোক খারাপ হোক মেট্রোরেল আছে মিরপুরের জন্য এবং গাজীপুরের দিকে তুরাগ নামক একটা ট্রেন আছে আরো কিছু ট্রেন বাড়ানো যেতে পারে যেমন যারা ঢাকা থেকে মৌচাক বা কালিয়াকৈর যাবে তাদের জন্য একটা ট্রেন অনেক যাত্রী নিয়ে যায় এতেও রাস্তায় জ্যাম কমে যাবে –

শুধুমাত্র গাড়ীর চালক এবং রাস্তায় কর্মরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বাসের স্টাফদের প্রশিক্ষিত করলেই হবে না মিডিয়া ব্যবহার করে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে সকলকে সচেতন করতে হবে – এই ক্ষেত্রে স্লোগাঙ্গুলো এরকম হতে পারে

                        ক) যেখানে সেখানে বাস না থামানোর চেস্টা করে নির্দিষ্ট স্থানে এসে বাসে উঠুন নিজে উঠুন অন্যকে আইন মানতে উৎসাহিত করুন, ঠিক নামার সময় নির্দিষ্ট স্থানে নামুন – মনে রাখবেন আপনার এই সচেতনতা একটা সচেতন জাতি হিসাবে বিশ্বের দরবারে আমাদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে।

                        খ) যত্রতত্র হাত উচিয়ে গাড়ী থামিয়ে নামার এবং ওঠার চেস্টা করবেন না -কেউ করলে সাথে প্রতিবাদ করুন একবারের চেস্টায় হবে না জানি তবুও লেগে থাকতে হবে তবেই একদিন হবে।

                        গ) নিজে আইন মানুন অন্যকে মানতে উৎসাহিত এবং বাধ্য করুন যদি কেউ না মানতে চান তাহলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য গ্রহন করুন।

রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর এবং দায়িত্তশীল হতে হবে এবং রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে প্রয়োজনে রিজার্ভ পুলিশকে কাজে লাগাতে হবে কারন রিজার্ভ ফোরস তো একটা ব্যাক আপ ফোরস তাই এদেরকে ব্যবহার করা যাবে- এ ছাড়া স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পর্যায় ক্রমে ট্র্যাফিক পুলিশের সাথে ভাগভাগে  ব্যবহার করা যেতে পারে এতে উভয়েরই লাভ হবে – ছাত্রছাত্রীরা নিয়ম শৃঙ্খলা শিখবে আর পুলিশদের কাজেও গতি আসবে সাথে রিজার্ভ ফোরস এবং আনসার বাহিনী থাকলে কোথাও কোন জ্যাম থাকবে না-

রাস্তা সকল সিগনাল লাইটগুলোকে কার্যকর করতে হবে এবং প্রতিটি মোড়কে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং আওতায় আনতে হবে একিই সাথে একটা ব্যাক আপ টিম রেডি রাখতে হবে যদি কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় তাহলে তাতক্ষনিকভাবে ঘটনা স্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে। রাস্তা আশেপাশে কোথাও কোন প্রকারের গাড়ী মেরামতের গ্যারেজ বা মালামালের দোকানে গাড়ী সারাইয়ের ব্যবস্থা  থাকলে তা অবশ্যই রাস্তার উপড়ে গাড়ী রেখে করা যাবে না।

 

 


বর্তমান সময়ে শহরের ট্রাফিক সমস্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এটি শুধুমাত্র সময় অপচয় করে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তি এবং অর্থনৈতিক সমস্যার  কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের ট্রাফিক এবং জ্যাম নিয়ন্ত্রনে যথাযথ  ব্যবস্থা গ্রহন এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি কিছু প্রস্তাবনা :

. লেইন মেনে গাড়ি চলাচলের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং লেইন অনুযায়ী গতিসীমা বজায় রাখা

গাড়ির নির্দিষ্ট লেইন অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করা আবশ্যক। লেইন ভঙ্গ করলে শাস্তি আরোপ করা উচিত।

. উল্টো পথে চলাচলে জরিমানা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে শাস্তির আওতায় আনা এবং জরিমানার পরিমান হতে উদাহরনযোগ্য যাতে একবারেই শুধরে যায় এই যেমন এক মাসের স্যালারীর সমান ৫০০০০ থেকে ১০০০০০ হলে ভালো হবে একবার যদি কেউ এই জরিমানার স্বীকার হয় আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি সে আর কোন দিন এই কর্ম আর করবে না -২০০/৫০০ কোন জারিমানার মধ্যেই পরে না। যে কোনো যানবাহন উল্টো পথে চললে তার বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে সেটা যদি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হয় তাহলেও করতে হবে কারন এদের কাছ থেকেই সবাই শিখবে – আমার জানি যে কুনাইন জ্বর সারানোর জন্য কিন্তু কুইনাইন নিজেই যদি নস্ট হয় তাহলে কী হবে তাই যে হোক না কেন আইন যেই ভাঙ্গুক না কেন সে আইনের আওতায় আসবে এবং শাস্তি ভোগ করবে।

. কোন ধরনের ওভারটেকের গ্রহণযোগ্য না-  রাস্তার বাসগুলোর জন্য এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো বাস অন্য বাসকে ওভারটেক না করতে পারে, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে।

. সাইকেল মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং কোনভাবেই ফুটপাথ ব্যবহার করতে পারবে না

অফিস টাইমে সাইকেল এবং মোটরসাইকেল এর জন্য সাময়িক লেন নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তারা সুরক্ষিতভাবে চলতে পারে।

. ভুলের পুনরাবৃত্তিতে  শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ:  

যদি কোনো চালক তিনবার ছোট ভুল করেন, তাহলে তিনবার সতর্ক করার পর তার লাইসেন্স বাতিল করা বা অর্থ জরিমানার ব্যবস্থা করা উচিত।

. অবৈধ পার্কিং রিকশা থামানোর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ:

যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যেখানে সেখানে রিকশা থামিয়ে রাখা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। ধরনের গাড়ি বা যানবাহন পুলিশ হেফাজতে ডাম্পিং করার মতো কঠোর আইন চালু করা উচিত।

. রাস্তায় কোন প্রকারের অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না- যেসব অবৈধ দোকান বা স্থাপনা রাস্তা দখল করে আছে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে যান চলাচল সহজ করতে হবে।

. সিগন্যাল অনুযায়ী সময় মেনে চলাচল নিশ্চিত করা- প্রতিটি সিগন্যালে নির্দিষ্ট সময় মেনে যান চলাচল করতে হবে এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা আরোপ করা উচিত।

. সিটি কর্পোরেশনের করমচারীম এবং কর্মকর্তারা রাতের বেলা রাস্তা পরিদর্শন করবেন এবং কোথাও কোন প্রকারের ভাঙ্গা চোরা নজরে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে তা সারাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে কারন ভাঙ্গাচোরা রাস্তা জ্যামের একটি প্রধানতম কারন।

১০. রাস্তার আশে কোথাও ময়লা আবর্জনা থাকতে পারবে না – সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর নিয়মিত সকল ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করবে।

১১. কোন প্রকারের উন্নয়ন কার্যক্রম দিনের বেলায় করা যাবে না কারন এই সময়ে সাধারন জনগন রাস্তায় থাকে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে- এর উদাহরন আছে তাই দিনের বেলায় যখন মানুষ চলাচল বেশি তখন কোন প্রকারের উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো যাবে না।

১২. সকল ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম শেষে অবশ্যই সকল প্রকারের উৎপাদ মানে ময়লা এবং অপ্রয়োজনীয় উপকরন এবং মালামাল সরিয়ে ফেলতে হবে এতে নস্ট কম হবে এবং রাস্তায় কোন প্রকারের বাধা থাকবে না- যার ফলে কোন প্রকারের জ্যামের সৃষ্টি হবে না।

যোগাযোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে এবং তার প্রয়োগ নিশ্চিত করনে কিছু বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে,

- ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচারনা বৃদ্ধি করা।

- স্কুল কলেজ পর্যায়ে ট্রাফিক আইন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।

- ট্রাফিক পুলিশকে আরও কার্যকর প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ দেওয়া।

- সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান।

এই প্রক্রিয়ার যথাযথ ব্যবহার এবং প্রয়োগ সকলের দায়িত্বশীলতা এবং উক্ত দায়িত্ব সততার সাথে পালনের অঙ্গীকার শুধু রাস্তার জ্যাম না দূর করে দিবে সকল প্রকারের দুরনীতি এবং দুরবনীতিবাজদের গড়তে পারব এক স্বচ্ছ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ যেখানে থাকবে না জ্যাম পুরন হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশীর আজন্ম স্বপন –

চলবে-

 

The Road Management System in Bangladesh.

  The Road Management System in Bangladesh. Introduction The road transport system is the lifeline of Bangladesh’s economy and social stru...